কোলন ও পাকস্থলীর ক্যানসার দুটি আলাদা ধরনের ক্যানসার হলেও এদের মধ্যে কিছু সাধারণ উপসর্গ থাকতে পারে। কোলন ও পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে। গ্লোবোকান ২০২২ অনুসারে, বাংলাদেশে প্রতিবছর পাকস্থলী ও কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা যথাক্রমে ৮ হাজার ৩৬৫ ও ৫ হাজার ৭২৩ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৭ হাজার ৩৫৯ ও ৩ হাজার ৪৫৭।
কোলন ক্যানসার (Colon Cancer)
কোলন ক্যানসার অন্ত্রের (large intestine) শেষ অংশে, বা সিগময়েড কোলনে শুরু হতে পারে। এটি অনেক সময় “কলোরেকটাল ক্যানসার” হিসেবেও পরিচিত।
লক্ষণ:
- পেটের ব্যথা বা অস্বস্তি
- রক্ত বা অন্ধকার মল
- দীর্ঘ সময় ধরে ডায়রিয়া বা কষ্টকর মল ত্যাগ
- অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন হ্রাস
- দুর্বলতা বা ক্লান্তি
কারণ:
- বংশগত: কিছু পরিবারে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে।
- অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, শাকসবজি ও ফলমূল কম খাওয়া।
- ধূমপান ও মদ্যপান
- বয়স: ৫০ বছরের বেশি বয়সের লোকদের মধ্যে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি।
চিকিৎসা:
- সার্জারি: ক্যানসার আক্রান্ত অংশ অপসারণ।
- কেমোথেরাপি
- রেডিওথেরাপি
- লক্ষ্যযুক্ত থেরাপি
পাকস্থলীর ক্যানসার (Stomach Cancer)
পাকস্থলীর ক্যানসার সাধারণত পাকস্থলীর অভ্যন্তরে বা এর আশেপাশের টিস্যুতে তৈরি হয়। এটি সাধারণত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
লক্ষণ:
- অনির্দিষ্ট পেটের ব্যথা বা অস্বস্তি
- খাবার খাওয়ার পর পেট ভরা অনুভূতি
- ক্ষুধামান্দ্য
- অজানা কারণে ওজন কমে যাওয়া
- পেট ফাঁপা বা গ্যাস
- রক্তক্ষরণ বা ব্ল্যাক মল
কারণ:
- বংশগত: কিছু মানুষ genetic কারণে পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন।
- হেলিকোব্যাকটর পাইলোরি ইনফেকশন
- ধূমপান
- অতিরিক্ত মদ্যপান
- অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খাওয়া
- কিছু পরিবেশগত বা খাদ্যগত কারণ
চিকিৎসা:
- সার্জারি: ক্যানসার আক্রান্ত অংশ অপসারণ করা।
- কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি
- লক্ষ্যযুক্ত থেরাপি
উপরোক্ত ক্যানসারের লক্ষণগুলো দেখতে পেলে দ্রুত একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর বিশ্বে কোলন ক্যানসারে ১৯ লাখ ২৬ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয় এবং ৯ লাখ ৪ হাজার মানুষ মারা যায়। অপরদিকে পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হয় প্রতিবছর ৯ লাখ ৬৯ হাজার মানুষ এবং আর মারা যায় ৬ লাখ ৬০ হাজার। কলোরেক্টাল ও পাকস্থলী ক্যানসারের সব রকম চিকিৎসা ও ওষুধ বর্তমানে দেশেই পাওয়া যায়। নিজে সচেতন হতে হবে, অন্যকেও সচেতন করতে হবে, যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে কোলন ও পাকস্থলী ক্যানসার ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা যায়।